পাল্টে যাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন শান্তিনীতি

0
164

বিশেষ প্রতিবেদক­ তাহলে কি পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতি ও ভূগোল সম্পূর্ণ পাল্টে যাচ্ছে? অনেকে তাই মনে করছেন। ক্যাম্প ডেভিড সমঝোতা ও অসলো চুক্তির পর পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার এক প্রধান ভিত্তি হিসাবে দেখা হত ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই রাষ্টভিত্তিক সমাধানকে। বিশ্বেরও অধিকাংশ দেশ গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনের এক আলাদা রাষ্ট প্রতিষ্ঠাকে মেনে নিয়েছে। রাষ্টসংঘেও তা মার্কিন ভেটো সত্ত্বেও বেশ কয়েকবার প্রতিফলিত হয়েছেন।
কিন্তু নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ই ঘোষণা করেছিলেন ইসরাইলের নীতিকে মেনে নিয়ে দুই রাষ্টেÉর ভিত্তিতে সমাধানের নীতিকে তিনিও মানবেন না। বর্তমানে যুক্তরাষ্টÉ সফররত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন– আমি এখন ‘দুইরাষ্টÉ’ কিংবা ওই অঞ্চলে ‘একরাষ্টÉ’ এই দু’টো তত্ত্বকেই খতিয়ে দেখছি। বিবদমান দুই পক্ষ যা মেনে নেবে আমি েতা সেটাকেই বেছে নেব। দু’টো ক্ষেত্রেই আমার কোনও আপত্তি নেই। আমি দু’টোর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে পারব।
উল্লেখ্য– নেতানিয়াহু সহ বর্তমান ইসরাইলি নেতৃত্ব ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনও রাষ্টÉ দিতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য ইসরাইলের সুরক্ষার জন্য এই ধরনের কোনও রাষ্টÉ গঠন করতে ফিলিস্তিনিদের সুযোগ দেওয়া যাবে না। ফলে ট্রাম্পের প্রস্তাব মতো ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে আলোচনা হলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা কোনও রাষ্টÉকে ইসরাইল হতেও দেবে না এবং স্বীকারও করবে না। বর্তমানে ইসরাইল গাজা ভূখণ্ডে ২২ লক্ষের উপর ফিলিস্তিনিকে মানবেতর অবস্থায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পশ্চিম তীরের অবস্থাও গাজা-র থেকে খুব বেশি ভালো নয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন– বিল ক্লিন্টনের সময় থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্টÉ পশ্চিম এশিয়া এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সম্পর্কে যে নীতি অনুসরণ করে আসছিল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বর্তমান নীতি তার থেকে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গেল। অথচ বিল ক্লিন্টন– বিবদমান দুই পক্ষ এবং রাষ্টÉসংঘ– ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন– আরব লিগ ও অন্যান্য রাষ্টেÉর সঙ্গে মিলে যে শান্তি চুক্তির কথা বলছিলেন তাতে সবসময়ই ফিলিস্তিনিদের জন্য এক আলাদা রাষ্টেÉর কথা ভিত্তি হিসাবে কাজ করছিল। বর্তমানে নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা রাষ্টেÉর নীতির কথা অস্বীকার করছে। অন্যদিকে জেরুসালেম এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের জন্য নতুন করে শত শত আবাসন তৈরি করছে। আর তা করা হচ্ছে এই দুই জায়গা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে কিংবা তাদের মালিকানাভুক্ত ভূমিতে দখলদারি কায়েম করে। অন্যদিকে েনতানিয়াহুর জামাতা জারেদ কুশনার একজন ইহুদি এবং সে ইসরাইলের ইহুদি নেতৃবৃন্দের খুবই ঘনিষ্ঠ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের জামাতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন ইসরাইল-ফিলিস্তিনিদের সমস্যায় খবরদারি করার। কাজেই পর্যবেক্ষকরা বলছেন পশ্চিম এশিয়া ও মুসলিম দুনিয়ায় েপ্রসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নীতি পরিবর্তন নতুন করে আরও অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here