কালিম্পংয়ের উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ মমতার

0
143


কলম প্রতিবেদক– কালিম্পংঃ কালিম্পংকে রাজ্যের ২১তম জেলা হিসেবে ঘোষণার পর বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন জেলার উন্নয়নের নীল নকশা তৈরি করে দিলেন। কালিম্পং টাউন হলে ১৫টি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই জোর দেন উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার উপর। ইতিমধ্যেই সেবক থেকে কালিম্পং হয়ে সিকিমের রাস্তা তৈরির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া নতুন জেলার জলপ্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান– এখানকার ক্লাবগুলিকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। প্রত্যেক বোর্ডকে ১০ টি করে ক্লাবের নাম রাজ্য সরকারের কাছে পাঠাতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ প্রথম দফায় ১৫০ ক্লাব ২ লক্ষ টাকা করে পাবে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে বলেন– দার্জিলিংয়ের মতো এখানেও ম্যাল তৈরি করা হবে। লাভা– লোলেগাঁও– মংপু– মংপংকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কালিম্পংয়ের পুরোনো জেলকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে ওখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ার কথা হয়েছে। এ ছাড়া কালিম্পংয়ের চা– কাঠ– পরিবহণকে আরও উন্নত করে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা হবে। প্রতিটি বোর্ডকে স্বচ্ছভাবে কাজ করতে বলেন তিনি। খরচের হিসেবও দিতে হবে বলে তিনি জানিয়ে দেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে জানান– মে মাসে বুদ্ধ পূর্ণিমায় রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করবে। এখানে যাতে হইহই করে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হয় সেটাই মুখ্যমন্ত্রী চান। পাহাড়ের সবুজায়নের উপরও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এইসব কাজের মাধ্যমে যাতে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় তা দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মাধ্যমিক– উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মিটলে তিনি ফের আলিপুরদুয়ারে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। এ দিকে পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এখানে তিনি যেভাবে বারেবারে এসে দায়িত্ব নিয়ে উন্নয়নের চেষ্টা করছেন তাতে মানুষজন মু?। স্বভাবতই মোর্চার ভিত ক্রমেই নড়বড়ে হচ্ছে। এ দিন তার আঁচ পাওয়া গেল। এ দিন কালিম্পংয়ের মেলা গ্রাউন্ডে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রায় ৫০০০ সদস্য তৃণমূলে যোগদান করেন। তারা এখানকার তৃণমূলের পর্যবেক্ষক মন্ত্রী অর*প বিশ্বাসের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন। মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজু ভেটওয়াল– রাজু প্রধান– শঙ্করমণি রাই প্রমুখ এ দিন তৃণমূলে নাম লেখালেন। মুখ্যমন্ত্রীকে এখানকার মানুষ আত্মীয় হিসেবেই দেখছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here