প্রতিবন্ধীদের দান বা করুণা নয়– সমান নাগরিক হিসেবে সহযোগিতা করতে হবে­ সাংসদ ইমরান, আন-নূর মিশনে সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠান

0
150


ইনামুল হক– বসিরহাট
প্রতিবন্ধীদের প্রতি দান বা করুণার মানসিকতা নয়– বরং তারাও দেশের সমান নাগরিক। প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতা পেলে ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধীরা সমাজ ও পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের প্রতিভাকেও স্বীকৃতি দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নাগরিক অধিকারের জায়গা থেকে এই সহযোগিতা তাদের প্রাপ্য। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির সরবেড়িয়া আন নূর মিশনে প্রতিবন্ধীদের এক সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাজ্যসভার সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান। তিনি বলেন– ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা স্বনির্ভর হয়ে অর্থ উপার্জনও করতে পারে। উল্লেখ্য– জনাব ডা. আবদুল হামিদের পরিচালনাধীন আন-নূর মিশনে সাংসদ আহমদ হাসানের উদ্যোগে এবং েকন্দ্রের সমাজকল্যাণ দফতরের সহযোগিতায় একটি প্রতিবন্ধী চিহ্নিতকরণ শিবির হয়েছিল ৫ জুন ২০১৬। শনিবার তারই প্রথম পর্যায়ের সরঞ্জাম বিতরণের অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে আহমদ হাসান ইমরান ছাড়াও অন্যতম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাটের সাংসদ জনাব ইদ্রিশ আলি।
সাংসদ ইমরান বলেন কুরআন-এ বলা হয়েছে–সম্পদশালীদের অর্থে দরিদ্র এবং সম্বলহীনদের অধিকার রয়েছে। কাজেই সাহায্য কোনও দয়া বা করুণা নয়– বরং অধিকার। তিনি মহা নবী(সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেন। ‘তোমরা যদি দুনিয়াবাসীর উপর রহম করো –তাহলে উপরওয়ালা-ও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন’। আবার স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন ‘জীবে প্রেম করে যেইজন– সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’। তাই এসব বাণীকে মর্যাদা দিয়ে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। সরবেড়িয়া আন নূর মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডাক্তার আবদুল হামিদ সাহেবের প্রশংসা করে তিনি বলেন– এই মানুষটি নিজের সারাটা জীবন সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করে চলেছেন। ডা. হামিদের মতো মানুষ আছে বলেই সমাজ ইতিবাচক পথে হাঁটছে। সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণার কথাও উল্লেখ করেন।
সড়বেরিয়ায় শিবিরে শনিবার মোট ৬২০ জন প্রতিবন্ধীকে ট্রাইসাইকেল– হুইলচেয়ার– ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংসদ ইদ্রিশ আলি বলেন– প্রতিবন্ধীদের কখনোই প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখা উচিত নয়। সহযোগিতা েপলে তারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন– উন্নয়নের কোনও জাত-ধর্ম হয় না। তিনি জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক কর্তা সবাইকে সেবার মানসিকতায় কাজ করার আহ্বান জানান।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আন নূর মিশনের সম্পাদক ডা. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন– আমরা এই শিবির ছাড়াও ২২টি ব্লকে প্রতিবন্ধী শিবির করার জন্য জেলাশাসকের অনুমতি পেয়েছি। প্রতিবন্ধীরা যাতে সরঞ্জাম পায় সে ব্যাপারে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান ও প্রতিবন্ধী সহায়তা সামগ্রী সরবরাহকারী সংস্থা ‘অ্যালিমকো’র আধিকারিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যালিমকোর রিজিওনাল মার্কেটিং সেন্টার-এর ইনচার্জ অরিন্দম সরকার– সন্দেশখালি ১ ব্লকের বিডিও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল– সন্দেশখালি ২ ব্লকের বিডিও দেবাশিস মান্না– আগারআটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সবিতা রায়– অধ্যাপক মেহেদি হাসান– সমাজসেবী হারুণ মণ্ডল। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিএসডব্লিউ মণিশঙ্কর মুখার্জি– সমাজসেবী কল্যাণ মণ্ডল– সরোজ ব্যানার্জি– সৌরেন্দ্রনাথ পাল (বুড্ডু)– আনারুল সরদার– হাজী মণিরুজ্জামান (মন্টু)– আবু সিদ্দিক খান প্রমুখ।
এ দিন সুদূর মালদার কালিয়াচক থেকে এসেছিলেন কয়েকজন প্রতিবন্ধী। বারুইপুরের রামধারী থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী মনোয়ারা খাতুন বাবার সঙ্গে এসেছিলেন ট্রাই সাইকেল নিতে। বারুইপুরের পালান আলি মোল্লার বছর বাইশের ছেলে রহমান মোল্লা জন্ম প্রতিবন্ধী– সেও একটি ট্রাইসাইকেল পেয়ে খুশি। বৃদ্ধ সাত্তার মোল্লার একটি পা নেই। এতদিন ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটতেন। এ দিন একটি হুইল চেয়ার পেলেন তিনি। সন্দেশখালির সুচিত্রা ভুঁইঞার কন্যা ১২ বছরের সাগরী ভুঁইঞাকে দেওয়া হল একটি হুইলচেয়ার। ষাট বছরের প্রতিবন্ধী চপ বিক্রেতা সনাতন সরদার থাকেন ভোজের হাটে। সেখান থেকে এসে একটি ট্রাইসাইকেল নিয়ে সানন্দে বাড়ির পথে রওনা দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here