মার্কিন ফেডারেল আপিল, কোর্টেও হার ট্রাম্পের, সাত দেশের মুসলিমদের প্রবেশে আপাতত বাধা নেই

0
186


ওয়াশিংটন– ১০ ফেব্র&য়ারিঃ ফেডারেল আদালতেও ধাক্কা খেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এক্সিকিউটিভ অর্ডার মেনে সাতটি মুসলিম দেশ থেকে যাতে পর্যটক এবং শরণার্থীরা সাময়িকভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারেন সে জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সিয়াটেল কোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দিলেও হোয়াইট হাউজ তাকিয়ে ছিল ফেডারেল আপিল কোর্টের দিকে। কিন্তু নবম সার্কিট আদালত বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে– সিয়াটেল কোর্টের রায়ই বলবৎ রাখছে তারা।
এই রায়ে ফুঁসছেন স্বয়ং ট্রাম্প। েসই রাগের প্রতিফলন ঘটেছে তার করা টু্যইটেও। তিনি টু্যইট করে লিখেছেন– এই রায় জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি। আদালতেই দেখে নেওয়া হবে। অর্থাৎ এই মামলা আরও গড়াবে। তবে সিয়াটেল কোর্টেই তারা ফের আবেদন জানাবে– নাকি সুপ্রিম কোর্টে যাবে তা এখনও জানানো হয়নি ট্রাম্প শিবিরের তরফে।
মুসলিম প্রধান সাত দেশ–ইরান– ইরাক– লিবিয়া– সোমালিয়া– সিরিয়া– সুদান এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের প্রবেশ নিষেধ নিয়ে তার আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করার পর প্রেসিডেন্ট েডানাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন– এ ধরনের আইনে স্থগিতাদেশ দেওয়ার ফলে আমেরিকা বিপজ্জনক মানুষে ভরে যেতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরের আবেদনে তাৎক্ষণিকভাবে মুসলিম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল রাখা হোক বলা হলেও তা অগ্রাহ্য করে বিষয়টি নিয়ে েহায়াইট হাউজ ও বিচার বিভাগকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার কথা বলেছিল আপিল আদালত। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষেই বৃহস্পতিবার রাযü দিল ফেডারেল আপিল েকার্ট।
আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল বব ফার্গুসন। তিনি বলেন– এই রায় প্রমাণ করে যে– আমেরিকার আইন প্রেসিডেন্টসহ প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য।
রায়ের এক জায়গায় বলা হয়েছে– প্রেসিডেন্টের আদেশে যে সাতটি দেশের নাম করা হয়েছে সেখান থেকে কোনও এলিয়েন এসে দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়েছে এতমন কোনও প্রমাণ নেই। দেশের নিরাপত্তায় প্রেসিডেন্ট কোনও সিদ্ধান্ত অবশ্যই নিতে পারেন। আবার অন্যদিকে– সাধারণ মানু¡েরও দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া উচিত। তারা যাতে তাদের পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত না হন কিংবা হেনস্থার মুখে পড়তে না হয় সেদিকেও তাকাতে হবে। সংবিধানের মূল নীতিকে লঙ্ঘন করে কোনও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করতেই এই আইন কি না সে প্রশ্ন আগেই তুলেছিল আদালত।
লড়াইয়ের এখানেই শেষ নয়– বলল আমেরিকার নেতৃস্থানীয় মুসলিম সংগঠন
ওয়াশিংটন– ১০ ফেব্র&য়ারিঃ কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস-এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা নিহাদ ওয়াদ এই প্রসঙ্গে বলেন– রায় তাদের পক্ষে গেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাদের আইনি লড়াইয়ের এখানেই শেষে নয়। বরং পথ এখনও অনেকটা বাকি। এই রায় আমাদের বিচার ব্যবস্থার শক্তিকেই প্রমাণ করেছে। এই মামলার নিষ্পত্তি সহজ নয়– তাই এর আইনি প্রক্রিয়াও চলতে থাকবে। দেশের অন্যান্য কোর্ট একই পথে গিয়ে তাদের রায় শোনাচ্ছে– মনে হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টও একই বিন্দুতে এসে মিলিত হবে। ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের আরও বেশকিছু ঘোষণা বিভিন্ন ধর্মের– বর্ণের মানুষ এবং মহিলাদের কাছে হুমকি।
হিলারির টু্যইট– ফল দাঁড়াল ৩-০
নিউ ইয়র্ক– ১০ ফেব্র&য়ারিঃ আদালতে লেজে-গোবরে হতে দেখে ট্রাম্পকে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও। নির্বাচনের তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন টু্যইট করেছেন– ৩-০। অর্থাৎ তিন শূন্য গোলে হেরে গিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু ৩-০ কেন?
আসলে ফেডারেল অ্যাপিল কোর্টে বিচারক ছিলেন তিনজন। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন প্রত্যেকেই। হিলারির এই টু্যইটকে সমর্থন এবং ব্যঙ্গ করেও টু্যইট করছেন বহু মানুষ। কেউ বলছেন– হিলারি দারুণ দিয়েছেন! কেউ লিখেছেন– হিলারি যে আগেই ২-০ হেরে বসে আছেন। অর্থাৎ দুবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কুপোকাত হয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here