দ্বিতীয় ম্যাডাম রোজভ্যালির হদিশ পেলেন ইডি কর্তারা

0
188

কলম প্রতিবেদক­ সতীর্থ মনোজ কুমারের ফেঁসে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে নেমে দ্বিতীয় ম্যাডাম রোজভ্যালির খোঁজ পেয়েছেন ইডির তদন্তকারীরা। তবে এখনও তাঁর নাগাল পাননি তাঁরা। ভিআইপি রোডের উপরে থাকা রোজভ্যালির মালিকানাধীন স্বর্ণবিপণির অন্যতম পরিচালক পদে থাকা ওই দ্বিতীয় ম্যাডাম রোজভ্যালি আচমকাই বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন। পাশাপাশি শুভ্রা কু[ু সম্পর্কে আরও অজানা তথ্যের হদিশ পেতে সৌমিক বসু নামে আরও এক রহস্যজনক ব্যক্তির সন্ধান শুরু করেছেন ইডির তদন্তকারীরা।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে– দিল্লি থেকে সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ পেয়ে রোজভ্যালি তদন্তে সংস্থার সহকারী অধিকর্তা মনোজকুমারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন ইডির নয়া তদন্তকারী দল। আর সেই তদন্তে রোজভ্যালির বিভিন্ন বাজেয়াপ্ত নথিপত্র দেখেই চমকে উঠেছেন সৌমেন বসুমল্লিকের নেতৃত্বে থাকা তদন্তকারী দল। সেইসঙ্গে শুভ্রা কু[ুকে জেরা করেও মিলেছে বহু তথ্য। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন– স্বামীর ভবিতব্য জানতে পেরেই একপ্রকার ব্ল্যাকমেল করে গৌতম কু[ুকে দিয়ে ২০১২ সালের পুজোর আগেই স্বর্ণবিপণি খুলিয়েছিলেন শুভ্রা। ডিরেক্টর হিসেবে ছিলেন স্বয়ং েসৗমিক বসু– গৌতম কু[ু– রামলাল গোস্বামী– দেবদাস মুখোপাধ্যায় ও অশোক সাহা। এর মধ্যে সবথেকে রহস্যময় হলেন সৌমিক বসু। খাতায়-কলমে সংস্থার ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশের মালিক ছিলেন তিনি। কিন্তু
সংস্থার পথচলা শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কর্পূরের মতো উবে যান তিনি। স্বর্ণবিপণির একাধিক কর্মী ইডির নয়া তদন্তকারীদের জানিয়েছেন– সৌমিকের সঙ্গে শুভ্রা ম্যাডামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি গৌতম কু[ু। ইডি কর্তারা মনে করছেন– উধাও হওয়া সৌমিক বসুর সন্ধান মিললে আরও অনেক অজানা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে।
রোজভ্যালি ও রেজিস্ট্রার অব কোম্পানির কাছে জমা পড়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে ইডি কর্তারা জানতে পেরেছেন প্রথম তিন বছরে স্বর্ণবিপণিতে রোজভ্যালির বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা থেকে ঋণ হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ঢেলেছিলেন গৌতম কু[ু। যেসব সংস্থা থেকে জলের মতো টাকা ঢালা হয়েছিল সেইগুলি হল রোজভ্যালি হোটেলস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ল্যান্ডব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া লিমিটেড। তাছাড়া ২০১৪-১৫ আর্থিকবর্ষে স্বর্ণিকা নামে এক স্বর্ণসঞ্চয় প্রকল্প চালু করে খদ্দেরদের কাছ থেকে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই খুঁড়িয়ে চলছিল স্বর্ণবিপণি। প্রথম বছরেই লোকসানের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা।
ইডি কর্তারা আরûও জানতে পেরেছেন– স্বর্ণবিপণি পরিচালনার নামে স্ত্রী শুভ্রার বেহিসেবি এবং উচ্ছ´+ঙ্খল জীবনযাপনে তিতিবিরক্ত হয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্থার সর্বক্ষণের পরিচালক হিসেবে নিজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক মহিলাকে বসান েগৗতম কু[ু। আর তারপরেই শুরু হয় অন্য খেলা। বিধি এমনই বাম যে ওই মহিলা (সংস্থার কর্মীদের কাছে সেকেন্ড লেডি) স্বর্ণবিপণি থেকে শুভ্রা কু[ুর ডানা ছাঁটতে শুরু করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে তিক্ততা ও লড়াই বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গৌতম কু[ু নিজে স্বর্ণবিপণির পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ ইডির হাতে েরাজভ্যালি কর্ণধার গ্রেফতার হওয়ার পরেই শুভ্রা কু[ু আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েন। সেকেন্ড লেডি রোজভ্যালি সাফ জানিয়ে দেন– মালিক হিসেবে শুভ্রাদেবী কোনও খবরদারি করতে পারবেন না। পরিবর্তে ভরণ-পোষণের জন্য মাসিক রাহাখরচ পাবেন।
ইডির তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন– এরপরেই স্বর্ণবিপণির দখলদারি পেতে মনোজকুমারের দ্বারস্থ হন গৌতম পbী। বন্ধুত্বের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দু’জনের মধ্যে। আর সেই ঘনিষ্ঠতার দাম মেটাতে স্বর্ণবিপণির ওই মহিলা পরিচালককে নিজের পদমর্যাদা ভাঙিয়ে ভয় দেখাতে থাকেন মনোজকুমার। স্বর্ণবিপণি বন্ধের হুমকি দিয়ে সংস্থার মালিকানার হাতবদল ঘটানোর একটা চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ইডি আধিকারিক। গত বছরের ৮ জুলাই সুমিতা ঘোষ নামে এক মহিলাকে স্বর্ণবিপণির সর্বক্ষণের পরিচালক পদে বসানো হয়। ইডি তদন্তকারীরা েজনেছেন– সেই সুমিতা ঘোষই কলকাতা পুলিশের এসটিএফের বাজেয়াপ্ত করা সিডির দ্বিতীয় ম্যাডাম রোজভ্যালি। ইডি কর্তা মনোজ কুমারের সঙ্গে শুভ্রা কু[ুর ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই যিনি ভিআইপি রোডের উপরে অবস্থিত েরাজভ্যালির স্বর্ণবিপণির মূল অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়ে বেপাত্তা হয়েছেন।
ইডির এক আধিকারিকের কথায়– ‘রোজভ্যালি কর্ণধার গৌতম কু[ুর বরাবরই মহিলাদের প্রতি দুর্বলতা ছিল। দাদা কাজল কু[ুর আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃতু্যর আগে থেকেই সিলভার ভ্যালি কমিউনিকেশন নামে এক সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন শুধুমাত্র নারীসঙ্গ লাভের জন্যই। আর সেই নারীরাই তাঁকে পতনের সিঁড়ি বানিয়েছেন। সাধে কি আর বলে– নারী সঙ্গে সর্বনাশ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here