তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে মন্ত্রী জাভাদেকারের আলোচনা, আলিগড় মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসে আশার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ জাভাদেকারের

0
190

বিশেষ প্রতিবেদক­ আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসের আর্থিক সংকট এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার সম্পূর্ণ অভাব সম্পর্কে সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান রাজ্যসভায় জিরো আওয়ারের েনাটিশ দেওয়া ছাড়াও এবং মানবসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকারকে একটি নোট পাঠিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকার আহমদ হাসান ইমরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে সংসদ ভবনেই মন্ত্রী জাভাদেকারের সঙ্গে তৃণমূলের সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান এবং নাদিমুল হক এক বৈঠকে মিলিত হন। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসের বর্তমান সমস্যা সম্পর্কে মন্ত্রী জাভাদেকার বলেন– তিনি এ বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভাগের রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও ডেকে পাঠিয়েছেন। কেন মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসের বকেয়া অর্থ এখনও প্রেরণ করা হয়নি– রিপোর্ট পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে তিনি সম্মক বলতে পারবেন।
সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান তাঁকে জানান– সময় মতো অর্থ না পেলে মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসের শিক্ষক– অশিক্ষক কর্মচারীরা খুবই মুশকিলে পড়বেন এবং যেসব ছাত্রছাত্রী ইতিমধ্যে সেখানে পড়াশোনা করছে তাদের পঠন-পাঠনেও ব্যাঘাত ঘটবে। ইমরান আরও বলেন– সাচার কমিটির রিপোর্টে শিক্ষায় মুসলিমদের দুরবস্থার যে করুণ চিত্র প্রকাশিত হয়– তার ভিত্তিতেই মুর্শিদাবাদ– কিষাণগঞ্জ ও মালাপুরমে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ক্যাম্পাস প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। মন্ত্রী জাভাদেকার বলেন– তিনিও শিক্ষাক্ষেত্রে সকলের উন্নয়নে সমানভাবে আগ্রহী। তবে তাঁর অভিমত হল– সাচার কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর েয ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে– এ সময়ের মধ্যে মহারাষ্টÉ– কেরল– তামিলনাডY সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে মুসলিমদের শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। পরিসংখ্যানের বিচারে তারা এখন সংখ্যগুরুদের তুলনায় খুব একটা পিছিয়ে নেই। তবে প্রকাশ জাভাদেকার স্বীকার করেন– অসম– পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার প্রভৃতি প্রদেশে মুসলিমরা এখনও শিক্ষায় বেশ পিছিয়ে।
সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান মন্ত্রী জাভাদেকারকে জানান– বিগত ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এবং তারও আগে কংগ্রেস আমলে মুর্শিদাবাদের আর্থিক– সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে তেমন কোনও উন্নয়ন হয়নি। এসব ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ েদশের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির অন্যতম। শিক্ষাক্ষেত্রেও মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘুরা বেশ পিছিয়ে। তাই যখন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস মুর্শিদাবাদে প্রতিষ্ঠার জন্য কেন্দ্র প্রস্তাব দেয়– পশ্চিমবাংলার রাজ্য সরকার তাকে স্বাগত জানায় এবং প্রায় ৩০০ একর জমি মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের মাধ্যমে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করা হয়। মুর্শিদাবাদের জনসংখ্যা এখন প্রায় ৮০ লক্ষের কাছাকাছি। এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য মুর্শিদাবাদে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তাই পশ্চিমবাংলা সরকার এবং মুর্শিদাবাদের মানুষ আশা করেছিল– আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস জঙ্গিপুরের কাছে স্থাপিত হলে এই এলাকায় শিক্ষার যে ঘাটতি রয়েছে তা অনেকটাই পূরণ হবে। আর সে জন্যই রাজ্য সরকার প্রায় ৩০০ একর জমি হস্তান্তর করতে দ্বিধা করেনি। কিন্তু বর্তমানে মুর্শিদাবাদের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মাত্র ৩টি বিষয় পড়ানো হয়। স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণ এবং আরও বিষয়গুলি মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসে প্রবর্তনের জন্য কোনও উদ্যোগই লক্ষ করা যাচ্ছে না। অথচ বলা হয়েছিল– আলিগড়ের পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসে মেডিক্যাল– ইঞ্জিনিয়ারিং– বিজ্ঞান ও কলা বিষয়ের সবগুলি বিভাগেই থাকবে। এ ছাড়া এমফিল– পিএইচডি করার এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণারও সুযোগ থাকবে। সাংসদ ইমরান মন্ত্রীকে বলেন– বর্তমানে মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসটি অর্থ– পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে সম্পূর্ণ দিশাহীন অবস্থায় রয়েছে।
মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকার তৃণমূলের সংসদদের বলেন– তিনি সমগ্র বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে খুব শীঘ্রই তিনি মুর্শিদাবাদের আলিগড় ক্যাম্পাস এবং কিষাণগঞ্জ পরিদর্শন করবেন। এই ক্যাম্পাসগুলির বিকাশে যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে কথাবার্তাও বলবেন।
এ দিকে জানা গেছে– আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসে যে ৬০ কোটি টাকা এসেছিল তার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট বা কীভাবে ব্যবহার হয়েছে তার হিসাব সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আরও কিছু স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছিল। মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসের ডাইরেক্টর ড. বদরুদ্দোজা দৈনিক কলম-কে বলেন– আমরা দিনকয়েক আগে যে স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছিল তা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here