আমাদের বাজেট দেশের সেরা­ মুখ্যমন্ত্রী

0
164

কলম প্রতিবেদক­ আমাদের বাজেটই দেশের সেরা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাজেট পেশ হওয়ার পর এ কথাই বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোট বাতিলের পর কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন কেন্দ্রের বাজেট অর্থহীন– দিশাহীন– ভিত্তিহীন– লক্ষ্যহীন– প্রভাবহীন এবং অমানবিক। খুব স্বাভাবিকভাবেই শুক্রবার লক্ষ্য ছিল নোট বাতিলের পরিস্থিতিকে কীভাবে মানবিক বাজেট উপস্থাপিত করা যায় সেদিকেই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই কাজটাই করে দেখালেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। আর সে কারণেই বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন– ‘গত বছর বাজেট দেখে অনেকেই বলেছিলেন– ভোটমুখী বাজেট। এবার নির্বাচন নেই। উন্নয়নের কাজ একটা কনটিনিউয়াস প্রসেস। সে কারণেই আজকের বাজেটে আট মাস আগের সরকারের একটা প্রকল্পও বাতিল হয়নি। যে সামাজিক কর্মসূচি চলছিল– একটাও সামাজিক কর্মসূচি বাতিল করা হয়নি। জন্ম থেকে মৃতু্য পর্যন্ত কোথাও যদি মানবিক মুখ দেখতে চান তবে পশ্চিমবঙ্গই সেরা উদাহরণ।’
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বাম আমলের ঋণের বোঝা নিয়ে ফের সরব হন। কেন্দ্র বিভিন্ন সরকার এই বোঝা লাঘব করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সমাধানের পথে কেউ হাঁটেনি। আর সে কারণেই বাম আমলের ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তৃণমূল সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন– ‘আগামী বছরও আমাদের ৪৭হাজার কোটি টাকার ঋণ শোধ করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে শোধ করতে হবে দুই লক্ষ চুয়ান্ন হাজার কোটি টাকা। তারপরও সেরা মানবিক বাজেট পেশ করেছে রাজ্য।’ তাঁর বক্তব্য– ‘আর্থিক সংকটেও কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হয়নি। আরও বেশি মানুষ আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা পেয়েছেন। ঋণ ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা সময়ে পেলে হয়তো আরও বেশি উন্নয়ন হতে পারত। মুখ্যমন্ত্রীর গলায় আপশোস ধরা পড়েছে– ‘ঋণ জর্জরিত অবস্থায় আমরা অসহায়।’
এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন– ‘আর্থিক সংকট সত্ত্বেও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা পালনে বদ্ধপরিকর রাজ্য। আর সে দিক থেকে বিচার করলে গোটা দেশকে দিশা দেখাতে পারে আমাদের রাজ্য বাজেট। আগামী দিনে উন্নয়নে সরকারের অভিমুখও স্পষ্ট হয়েছে বাজেটে। অমিত মিত্রের বাজেট প্রস্তাবকেই তাই সেরার সার্টিফিকেট দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাম আমলের দেনা শোধ করতেই বেরিয়ে যাচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। এই পরিস্থিতিতে সব উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখাটাই সাফল্য মানছেন মুখ্যমন্ত্রী। নোট বাতিলে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়– গোটা দেশের অর্থনীতিতে মন্দা পরিস্থিতি নেমে এসেছে। মন্দার কারণে ধুঁকছে গোটা দেশের ছোট ও মাঝারি শিল্প। মুখ্যমন্ত্রী জানান– নোটবন্দির কারণে কর্মহীনদের প্রতি সহানুভূতিশীল রাজ্য। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে কর্মহীন হয়ে রাজ্যে ফিরে এসেছেন বহু মানুষ। তাদের সাময়িক স্বস্তি দিতে আড়াইশো কোটি টাকার তহবিল গড়ল রাজ্য সরকার। এখানেও মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়ে দিলেন নোট বন্দির পরিস্থিতিতে রাজ্যের সরকার মানবিক। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে – ‘নোট বাতিল নিয়ে ভেবেছিলাম কেন্দ্র সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করবে। কিন্তু করেনি। আমাদের হাতে যতটুকু আছে ততটুকুই করেছি।’
এর পাশে বামেদেরও একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন– ‘২০০৬ সালে সিপিএম বন্ড নিয়েছিল। বাজার থেকে বন্ড নিয়েছিল সিপিএম। আজ আমাকে সেই টাকা শোধ করতে হচ্ছে । এই টাকা আমাকে শোধ করতে হবে কেন? ২০০৬ থেকেই রাজ্যের অর্থনীতি ধুঁকছে । এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও আমরা এত কর্মসূচি নিয়েছি । যে রাজ্যটা এতটা কাজ করতে পারে। সেই রাজ্যকে তো পুরস্কার দেওয়া উচিত কেন্দ্রের। অসংগঠিত শ্রমিক– ক্ষুদ্র শিল্পের শ্রমিকরা এই বাজেটের মাধ্যমে জীবন ফিরে পাবেন । অনটন সত্ত্বেও আমরা ওদের জন্য কাজ করব। আশাকর্মীদের টাকা বাড়িয়েছি। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের টাকা বাড়িয়েছি। কৃষকদের বিশেষ তহবিল করা হয়েছে। কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। আমাদের হাতে এর থেকে বেশি টাকা নেই। যতটা সম্ভব হয়েছে ততটাই কাজ করেছি ।’
এ দিন অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়ালেও বাড়েনি সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা। তবে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে তাঁর অসহায়তা স্বীকার করে নিয়েছেন। মূলত ঋণের বোঝায় জর্জরিত রাজ্য। এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উন্নয়নের কাজকেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন– ‘অনেকে অনেক কিছু চায়। দিনে দিনে খরচ বাড়ছে। লোকে চায় আমাদের ক্ষমতা নেই।’ আর বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা– ‘যাঁরা কথায় কথায় ভাঙচুর করেন– আর বড় বড় ভাষণ দেয় তাঁদের মুখে বড় বড় কথা থাকতে পারে। এ রাজ্যে ৩৪ বছর বাম সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেখেছি। তারা না করেছে একটা খাদ্য সাথী– না করতে পেরেছেন একটা কন্যাশ্রী। না করতে পেরেছেন একটা সবুজশ্রী– না করেছেন বিনা পয়সায় চিকিৎসা! কে বারণ করেছিল ওদের। কংগ্রেসও করতে পারেনি– সিপিএমও করতে পারেনি। আর বিজেপি তো কেন্দ্রে আছে কিছুই করতে পারে না মানুষের অধিকার কাড়া ছাড়া। এই পরিবেশে আমাদের বাজেটই সেরা বাজেট।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here