রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে সরব হলেন পোপ ফ্রান্সিসও

0
178

ভ্যাটিকান সিটি– ৯ ফেব্র&য়ারি­ ‘ইসলামের প্রতি আস্থা আর নিজেদের সংস্টৃñতিকে আঁকড়ে ধরাই ছিল কি ওদের অপরাধ?’ এ কি নিছকই প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া? নাকি বিশ্ববাসীর বিবেককে ঝাঁকুনি দিলেন তিনি? প্রসঙ্গটা দিনভর ঘোরাফেরা করল আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ বক্তা যে সে ব্যক্তি নন– ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। আর যাদের প্রসঙ্গে তিনি এই বক্তব্য রাখছেন– সেই রোহিঙ্গা মুসলিমরা আজ সারাবিশ্বের কাছে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বুধবার রোহিঙ্গাদের নিয়ে মুখ খুলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিলেন পোপ। আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই ভ্যাটিক্যানে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফ্রান্সিস। সেখানেই রোহিঙ্গা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। জানান গভীর সমবেদনা। বলেন– ওদের কেউ চাইছে না বলেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। কিন্তু ওদের তো কোনও দোষ নেই। ওরা বেশ ভালোও। শান্তিপ্রিয়। ওরা হয়তো খ্রিস্টান নয়। কিন্তু ওরা আমাদেরই ভাইবোন।’ শুধু বক্তব্য রাখাই নয় পোপ রোহিঙ্গাদের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনাও করেন। তাতে উপস্থিত সকলকে যোগ দিতে আহ্বানও জানান।

পোপ মুখ খুললেন এমন একটা সময়ে যখন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে এমনকী রাষ্টÉসংঘও। সম্প্রতি রাষ্টÉসংঘের মানবাধিকার দফতর সরব হয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর হয়ে চলা অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে। রাষ্টÉসংঘের বিশেষ পরামর্শদাতা আদামা দিয়েং বলেন– রোহিঙ্গাদের ওপর চলা অত্যাচার হিংসাত্মক– এসব মেনে নেওয়া যায় না। মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নির্যাতন নিয়ে কোনও পদক্ষেপই নিচ্ছে না। তাদেরই সেনাবাহিনী সবথেকে বেশি অত্যাচার চালাচ্ছে। রাষ্টÉসংঘের এক কর্তা বুধবার বলেন– মায়ানমারে নিরাপত্তাবাহিনীর নির্যাতন কিংবা তাদের গুলিতে প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।
রাষ্টÉসংঘের নানা সতর্কতা এবং উদ্যোগ সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের জনজীবনে সেভাবে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মায়ানমার সরকারের কাজকর্মেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। পোপের বক্তবেও যে সেখানে ছবিটা পালটাবে সে সম্ভাবনাও নেই। তবে ইউরোপের বিভিন্ন মহলে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যে একটা বার্তা গেল– তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
বর্তমান পোপ তাঁর নানা মানবিক এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য সব মহলেই জনপ্রিয়। ঠিক একই কারণে তিনি কিছুটা বিতর্কিতও। ভ্যাটিকান সিটি থেকে অনেক দূরে এশিয়ার একটি দেশে একটি জনগোষ্ঠীকে তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের জন্যই দেশত্যাগ করতে হচ্ছে– ধর্ষিত হতে হচ্ছে– সে খবর যে তাঁর অজানা নয়– তাও একপ্রকার বুঝিয়ে দিলেন পোপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here