শহিদ মিনারের সভা থেকে পুলিশকে হুমকি বিজেপি নেতাদের

0
152

কলম প্রতিবেদক­ গণতন্ত্র বাঁচাওয়ের নামে ডাকা সমাবেশ থেকেই রাজ্যের আইপিএস পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকদের সরাসরি হুমকি দিলেন বিজেপি নেতারা। সোমবার শহিদ মিনারের সভায় বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় থেকে শুরু করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ– রীতেশ তিওয়ারিরা সমবেত কণ্ঠেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন– ‘ভুলে যাবেন না– কেন্দ্রে বিজেপি সরকার রয়েছে। স্বরাষ্টÉমন্ত্রকের দায়িত্বও বিজেপির হাতে। হয় নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। নচেৎ যেকোনও পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন।’ হুমকি যে ফাঁকা বুলি নয়– তা বোঝাতে বছর ১৫ বছর আগে লালকৃষ্ণ আদবানি কেন্দ্রের স্বরাষ্টÉমন্ত্রী থাকাকালীন তামিলনাডুর বেশ কয়েকজন আইপিএস অফিসারের ভাগ্যে কী ঘটেছিল– তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা।
এ দিনের সভায় রাজ্যের আইপিএসদের হুমকি দেওয়ার সূচনা করেছিলেন বিজেপি নেতা রীতেশ তিওয়ারি। পুলিশের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন– ‘মনে রাখবেন– কেন্দ্রে ক্ষমতায় কিন্তু কংগ্রেস সরকার নয়। বিজেপি সরকার। বিজেপি নেতাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হলে যোগ্য জবাব পাবেন।’ রীতেশের সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন– ‘বিজেপি নেতাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর মতো ভুল কাজ করবেন না। তাহলে দু’দিনেই বাংলাকে এফোঁড়ü-ওফোঁড় করে দেবে বিজেপি কর্মীরা।’ দুই নেতাকে যোগ্যসঙ্গতে আসরে অবতীর্ণ হন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়-ও। হুমকির সুরে তিনি বলেন– ‘আইপিএসদের বলছি– নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। বিজেপিকে রোখার দায়িত্ব নেবেন না। মনে রাখবেন রাজ্যের বিজেপি কর্মীদের পাশে রয়েছে কেন্দ্রের সরকার। তাছাড়া আপনাদের সব রেকর্ড আমার কাছে আছে। কোনও আইপিএস চিটফান্ডে তদন্তের নামে টাকা কামিয়েছেন– বিদেশে টাকা পাচার করেছেন– সব জানা আছে। সিবিআই যেদিন পৌঁছে যাবে– জেল কি জিনিস বুঝতে পারবেন। ’
শুধু পুলিশকে হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি বিজেপি নেতারা। সিবিআইকে যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে– তাও আকারে ইঙ্গিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁরা। কৈলাস বিজয়বর্গীয় যেমন মঞ্চ থেকেই সিবিআই অফিসে গিয়ে চিটফান্ড নিয়ে তদন্তের গতি বাড়ানোর জন্য দাবি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেছেন– ‘ভোট পর্ব মিটে গেলেই দেখতে পারবেন কী দশা হয়। পুরো তৃণমূল মন্ত্রিসভাকেই কটক জেলে পোরা হবে। জেলের মধ্যে বসেই মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।’ রাহুল সিনহা বলেছেন– ‘উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন মিটে গেলেই তৃণমূল নেত্রী বুঝতে পারবেন– কত ধানে কত চাল।’
তবে এ দিনের সভাতেও রাজ্য বিজেপি নেতাদের খেয়োখেয়ির ছাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে। সভায় গরহাজির ছিলেন রাজ্যে থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া বাবুল সুপ্রিয়– সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। আসেননি রাজ্যসভার সাংসদ র*পা গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও শহরেই ছিলেন তিনি। সভায় লক্ষাধিক মানুষ আসবেন বলে গত কয়েকদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিজেপি রাজ্য নেতারা। কিন্তু শহিদ মিনারের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা খালি ছিল। কম ভিড় কম হওয়ার কারণ হিসেবে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ– বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের আটকানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here