কলকাতা হয়ে বাঁকুড়ায় উদয়ন

0
149

কলম প্রতিবেদক­ অবশেষে সোমবার গভীর রাতে বাঁকুড়ায় এসে পৌঁছল সিরিয়াল কিলার উদয়ন দাস। অত রাতেও বাঁকুড়ায় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিকরা ও আকাAক্ষার প্রতিবেশীরা। বাঁকুড়া পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় উদয়নকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় বাইরে উত্তেজিত জনতার মাঝখান থেকে ভেসে আসছিল নানা ধরণের কটূক্তি। পুলিশ সূত্রে খবর– সারারাত ধরে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে উদয়নকে।
এ দিন সন্ধে ৬টা ১৮ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর ৬ ই ০২৫২ বিমানে করে নিয়ে আসা হয় উদয়ন দাসকে। তারপর ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ বিমানবন্দরের এ-ওয়ান গেট দিয়ে বাইরে আনা হয়। এ দিন উদয়নকে রায়পুর থেকে সোজা কলকাতায় নিয়ে আসে পুলিশ। তার সঙ্গে ছিল রায়পুর পুলিশের বেশ কয়েক জন উচ্চপদস্থ অফিসার। তারও উদয়নের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসে– অপেক্ষমাণ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের হাতে তুলে দেয় অভিযুক্তকে। পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী এ দিন রাতে উদয়নকে বাঁকুড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন বাঁকুড়ার পুলিশ অফিসাররা। তাঁরা চারটি গাড়ি নিয়ে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাদের ৪০ জনের টিম বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষাতেই ছিল। উদয়ন দাস বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের হাতে আসতেই বাঁকুড়া পুলিশের হাতে হ্যান্ডওভার করা হয়। তারপর কোনও রকম সময় নষ্ট না করে কিছু সময়ের মধ্যে ডব্লিউবি ৬৭ এ ৮৪১৯ নম্বর বোলেরো গাড়িতে নিয়ে বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশ।
বিমানবন্দরের বাইরে যখন পুলিশ আকাAক্ষা খুনের মূল অভিযুক্ত উদয়নকে নিয়ে আসছে– তখন উদয়নের শরীরী ভাষা ছিল স্বাভাবিক। ক্যাজুয়াল শার্টের উপর কালো ব্লেজার পরে ছিল সে। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ছিল নির্বিকার। মুখে ছিল কয়েক দিনের না কাটা দাড়ি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ দিন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বিমানবন্দর জুড়ে। এতটাই নিরাপত্তা ছিল যে কারওর কথা বলার উপায় ছিল না।
উদয়ন বিমানবন্দরের বাইরে পা দেওয়া মাত্রই সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক দিন ধরে আকাAক্ষা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে মানুষটিকে টিভির পর্দায় দেখে আসছিল সকলে– সেই মানুষকে চোখের সামনে দেখার সুযোগ মিস করতে চায়নি কেউ। তাই উদয়ন বাইরে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। তবে পুলিশি কৌশলের কাছে হার মানতে হয় সাধারণ মানুষকে। প্রেমিকাকে খুন করার পাশাপশি উদয়ন জেরায় জানিয়েছে– সে তাঁর বাবা ও মাকেও খুন করেছে ২০১০ সালে। রায়পুরের যে বাড়িতে উদয়ন তাঁর বাবা ও মাকে পুঁতে রেখে ছিল সেখানে খনন চালিয়ে বেশ কিছু হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি ডিএনও টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। এবার বাঁকুড়ার পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নতুন কী তথ্য উদ্ধার করতে পারে– সে দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here