শৈশবকাল থেকেই শিশুদের মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা জন্ম নিতে শুরু করে বলে জানাচ্ছেন বিশিষ্ট মনোবিদরা

0
146

কলম প্রতিবেদক­ মিথ্যা কথা বলা– মিথ্যা বলে স্কুলে না যাওয়া– বন্ধুদের সঙ্গে কথায় কথায় মারপিট করা। কোনও পশু বা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পাওয়া। এই ধরনের সমস্যা নিজেদের শিশুদের মধ্যে লক্ষ্যে করলেই তাদের প্রতি নজর দিতে হবে অভিভাবকদের। শৈশবকাল থেকেই শিশুদের মধ্যে এই ধরনের অপরাধ করার প্রবণতা জন্ম নিতে শুরু করে বলে জানাচ্ছেন বিশিষ্ট মনোবিদরা।
প্রথমে নিজের বাবা-মা ও পরে নিজের প্রেমিকাকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার মতো ভোপালের সদ্য এমনই একটি ঘটনা সকলের সামনে ওঠে এসেছে। তিনটি খুনের দায়ে অভিযুক্ত উদয়ন দাস বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে। নিজের বাবা ও মাকে খুন করার থেকে শুরু করে নিজের প্রেমিকাকে খুন করার ক্ষেত্রে কী ধরনের মানসিকতা কাজ করেছে উদয়নের মাথায়। এ বিষয়ে রাজাবাজর সায়েন্স কলেজের মনোবিজ্ঞানী অভিষেক হংস বলেন– উদয়নের মানসিক সমস্যা ছিল বলেই এই ধরনের ঘটনা সে ঘটাতে পেরেছে। তবে এই ধরনের মানসিক সমস্যা একদিন বা মাসখানেকের নয়। শৈশবকাল থেকে এর প্রভাব শুরু হয়। নিজেদের মনের মতো কোনও জিনিস না পেলে তাদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। উদয়নের মতো মানুষের ক্ষেত্রে অপরাধ করার ভয় বা শাস্তি পাওয়ার ভয় কোনও কিছুই কাজ করে না। এদের ক্ষেত্রে সবটাই নির্ভর করে ছোটবেলার পরিবেশের ওপর। তবে উদয়নের মতো ব্যক্তিদের সমাজের সঙ্গে খুব ভালো যোগাযোগ থাকে।
অভিষেকবাবুর মতো একই মত প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মনোবিদ ডা. কামাল হোসেনও। ডা. হোসেনের কথায়– শৈশবকাল থেকেই তাদের মধ্যে এই ধরনের মানসিকতার উত্থান হয়। আর চারটে মানুষের মতো এদের ক্ষেত্রে বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। তাদের মধ্যে বিবেক ও চেতনার জন্ম হয় না। তাই যে কোনও সময় তারা যেকোনও প্রকারের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে খুব সহজেই। পাশাপাশি ছদ্মবেশ ধারণ করে বাইরের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করার ক্ষমতাও থাকে এদের মধ্যে মারাত্মক। যার ফলে খুব সহজেই যেকোনও সাধারণ মানুষ তাদের সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন।
পিজির সায়ক্রিয়াটিক বিভাগের চিকিৎসক ইন্দ্রনীল সাহা বলেন– উদয়নের এই সমস্যাকে চিকিৎসার ভাষায় ‘অ্যান্টি সোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ বলা হয়। ছোটবেলা থেকে এদের মধ্যে অপরাধ করার প্রবনতা দেখা যায়। এরজন্য কিছুটা দায়ী বাড়ির পরিবেশও। বাবা-মা ছোটবেলা থেকে শিশুদের সময় দিতে না পারলেই এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। যার ফলে তাদের মধ্যে একাকিত্ব বাড়তে শুরু করে। সবসময় তাদের মধ্যে নতুনত্ব কিছু করার নেশা কাজ করতে থাকে। এর মধ্যে অপরাধও জড়িয়ে থাকে। পাশাপাশি অপরাধমূলক সিনেমা দেখার প্রবণতা যাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তাদের সঙ্গে কথা বললে তাদের মনের কথা বোঝাই যাবে না। তাদের সঙ্গে মেলামেশা করলে তাদের মানসিকতা বোঝা যায়। তবে এই ধরনের মানুষ যথেষ্ট ঠান্ডা মাথা ও শান্তিপূর্ণ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here