নোটবন্দির প্রভাব আগামী অর্থবর্ষেও বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াবে ৬.৫ শতাংশ বলছে– অর্থনীতির সমীক্ষা রিপোর্ট

1
383

নয়াদিল্লি– ৩১ জানুয়ারিঃ আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে। নোটবন্দির প্রভাব পড়বে আগামী অর্থবর্ষেও। যার জেরে বিগত তিন অর্থবর্ষের তুলনায় দেশের বৃদ্ধির হার হবে সর্বনিম্ন। অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা। মঙ্গলবার আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন– ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে দেশের বৃদ্ধির হার হবে ৬.৭৫ শতাংশ।
মোদির নোটবন্দি যে দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে– আগেই তার পূর্বাভাস দিয়েছিল ইন্ডিয়ান মানিটারি ফান্ড বা আইএমএফ। আইএমএফ-এর সমীক্ষা বলেছিল– চলতি অর্থবর্ষে দেশের বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াবে ৬.৬ শতাংশ। গত অর্থবর্ষে যা ছিল ৭.৬ শতাংশ। মঙ্গলবার আইএমএফ-এর পূর্বাভাসেই সিলমোহর দিলেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পেশের একদিন আগে জেটলি জানিয়েছেন– আগামী অর্থবর্ষে দেশের বৃদ্ধির হার হবে ৬.৭৫ শতাংশ। যদিও অর্থমন্ত্রীর দাবি– অর্থবর্ষের প্রথম দিকে এই হাল থাকলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে ৭.৫ শতাংশ হতে পারে।
পরিসং্যূান বলছে– ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে দেশের বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৬ শতাংশ। ১৪-১৫ সালে যা ছিল ৭.২ শতাংশ। যদিও ২০১৩-১৪ সালে দেশের বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। ১২-১৩ তে যা কমে দাঁড়িয়েছিল ৫.১ শতাংশে। দেশের এই আর্থিক সমীক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে রাজধানীর অলিন্দে। মোদির নোটবন্দির নীতির জেরে আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে ভুগতে হবে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।
বাজেট পেশের আগে বরাবরই দেশের অর্থনীতির হাল-হকিকত নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায় অর্থমন্ত্রক। বিগত ১২ মাসের সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতির বার্ষিক রিপোর্ট তৈরি করে অর্থনৈতিক কমিটি। এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে দেশের নীতি নির্ধারিত হয়। বর্তমানে এই সমীক্ষা রিপোর্টের দায়িত্বে রয়েছেন মু্যূ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম।
চলতি মাসের গোড়ায় কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দফতর দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি)-র হার ৭.১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে এই হার অনেকটাই কম। নোট বাতিলের প্রভাবেই জিডিপির হারে টান পড়েছে বলে সমীক্ষা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নোটবন্দির প্রভাব সাময়িক ক্ষতি করলেও আগামী দিনে এর থেকে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। সমীক্ষা রিপোর্ট শ্রম ও কর নীতির সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। বস্ত্র ও চর্ম শিল্পের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় সফল হতে গেলে এই সংস্কার প্রয়োজনীয় বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে। যার ওপর ভিত্তি করে আগামী অর্থবর্ষে আরও বেশি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে সওয়াল করেছেন অর্থমন্ত্রী।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে– গত অর্থবর্ষ ২০১৫-১৬’র তুলনায় আগামী অর্থবর্ষে কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১.২ শতাংশ বেড়ে হবে ৪.১ শতাংশ। শিল্পক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার চলতি অর্থবর্ষে হÉাস পেয়ে হতে পারে ৫.২ শতাংশ। গত অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৭.৪ শতাংশ।
রিপোর্ট বলছে– বাজার আগুনের যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলছে– তা আসলে ভুয়ো। এই নিয়ে পর পর তৃতীয় অর্থবর্ষে মুদ্রাস্ফীতির হারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাূতে পেরেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা ও জ্বালানি তেলের দাম কম থাকার কারণে আর্থিকভাবে লাভ হয়েছে। জুনেই জিএসটি চালুর ভাবনা রয়েছে অর্থমন্ত্রকের। তবে জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা কর চালু হলেও তা থেকে আর্থিক সুবিধা পেতে যে দেরি হবে তাও বলা হয়েছে সমীক্ষা রিপোর্টে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here